
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে বিবস্ত্রের পর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেয়ার মামলার প্রধান আসামি বাদলকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তার সহযোগী দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে রোববার আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন রহমত উল্লাহ ও আবদুর রহিম। রোববার রাতে গ্রেফতার করা হয় রহমতকে। এর আগে বিকেলে গ্রেফতার করা হয় রহিমকে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হলো।
ঘটনার ৩২ দিন পর রোববার দুপুরের দিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হয়।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করে। তবে মূল সন্দেহভাজনরা আত্মগোপনে ছিলেন।
ওই নারী ও তার স্বামী এলাকা ছেড়ে গেলেও রোববার গভীর রাতে নোয়াখালী সদর উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন উর রশীদ নিউজবাংলাকে জানান, রাত দেড়টার দিকে বেগমগঞ্জ থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে বাদলসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। এ মামলায় নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি বাদল এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে থানায় আরও একটি মামলা আছে। এছাড়া দেলোয়ার একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন।
আসামিদের মধ্যে একমাত্র রহমত উল্লাহ (৪১) ছাড়া সবার বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এলাকায় তারা সবাই বখাটে হিসেবে পরিচিত।
ফেসবুকে এক মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী নিজেকে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কয়েকজন পুরুষ তাকে ক্রমাগত মারধর করছেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই নারীর স্বামী বেশকিছুদিন এলাকার বাইরে ছিলেন। বাড়িতে ফেরার পর বাদল ও তার সহযোগীরা তাকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে।
ঘটনার পর এক মাস পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল জড়িতরা। এ জন্য পরিবারটি থানায় অভিযোগও জানাতে পারেনি।

পাঠকের মতামত